দ্বিতীয় পর্বে আমরা দেখেছি কীভাবে মহান আরব বিদ্রোহ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দুর্বল করে দিয়েছিল, ঠিক যখন ইহুদি সামরিক সংগঠনগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠছিল। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি এবং হলোকাস্টের ভয়াবহতা উন্মোচনের পর এই অসম সমীকরণ একটি চূড়ান্ত সংঘর্ষের দিকে দ্রুত এগিয়ে যায়। ১৯৪৮ সাল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে বিতর্কিত বছর। একটি জাতির জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধ, অন্য জাতির জন্য নাকবা বা "বিপর্যয়"। এই পর্বে আমরা যুদ্ধের ধারাবাহিক ঘটনাক্রম অনুসরণ করব এবং শরণার্থী সংকটের কারণ সম্পর্কে ইতিহাসবিদদের মধ্যকার প্রামাণ্য বিতর্কও পর্যালোচনা করব।
প্রথম পর্বে আমরা দেখেছি কীভাবে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষের উপর দাঁড়িয়ে ব্রিটেন পরস্পরবিরোধী প্রতিশ্রুতির একটি জাল বুনেছিল। ১৯১৭ সালের নভেম্বরে সেই জালের একটি সুতো আনুষ্ঠানিক নথিতে রূপ নেয় যা বেলফোর ঘোষণা নামে পরিচিত। এই একটিমাত্র চিঠি, যা আসলে একটি ব্রিটিশ মন্ত্রীর কাছ থেকে একজন ব্যক্তিগত ইহুদি ব্যাংকারের উদ্দেশ্যে লেখা। এই একটি চিঠিই পরবর্তী একশ বছরের ভূরাজনীতির দিকনির্দেশক দলিলে পরিণত হবে। এই পর্বে আমরা অনুসরণ করব কীভাবে এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোয় রূপান্তরিত হলো। কীভাবে ব্রিটিশ ম্যান্ডেট প্রশাসন দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ব্যর্থ হলো এবং কীভাবে ১৯৩৬-৩৯ সালের মহান আরব বিদ্রোহ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক শক্তিকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করল যে তার প্রভাব ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত টের পাওয়া যাবে।
১৯১৭ সালের ডিসেম্বরে জেনারেল এডমন্ড অ্যালেনবি যখন পায়ে হেঁটে জেরুজালেমে প্রবেশ করলেন, তখন চার শতাব্দীর একটি শাসনব্যবস্থা কার্যত সমাপ্ত হয়ে গিয়েছিল। উসমানীয় সাম্রাজ্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছিল, আর তার ভগ্নাবশেষের উপর দাঁড়িয়ে ব্রিটেন এমন এক ভূরাজনৈতিক পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছিল, যার পরিণতি একশ বছর পরেও শেষ হয়নি। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত বোঝার জন্য ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করা একটি সাধারণ ভুল। কারণ সেই বছরের সংঘাত আসলে আগের সাত দশকের রাজনৈতিক, জনতাত্ত্বিক ও আদর্শিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফল মাত্র। আমরা মূলত ১৫ টি পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন তৈরি করেছি ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের দীর্ঘ সংগ্রাম নিয়ে। সিরিজের প্রথম পর্বে আমরা ফিরে যাচ্ছি উসমানীয় ফিলিস্তিনে যেখানে এই সংঘাতের বীজ রোপিত হয়েছিল, বহু আগে থেকেই।