1948: A History of the First Arab-Israeli War : Benny Morris
"একটি যুদ্ধ যা একই সাথে একটি রাষ্ট্রের জন্ম এবং একটি জাতির উৎখাতের কাহিনি বলে।"
— বেনি মরিস, ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ
দ্বিতীয় পর্বে আমরা দেখেছি কীভাবে মহান আরব বিদ্রোহ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দুর্বল করে দিয়েছিল, ঠিক যখন ইহুদি সামরিক সংগঠনগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠছিল। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি এবং হলোকাস্টের ভয়াবহতা উন্মোচনের পর এই অসম সমীকরণ একটি চূড়ান্ত সংঘর্ষের দিকে দ্রুত এগিয়ে যায়। ১৯৪৮ সাল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে বিতর্কিত বছর। একটি জাতির জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধ, অন্য জাতির জন্য নাকবা বা "বিপর্যয়"। এই পর্বে আমরা যুদ্ধের ধারাবাহিক ঘটনাক্রম অনুসরণ করব এবং শরণার্থী সংকটের কারণ সম্পর্কে ইতিহাসবিদদের মধ্যকার প্রামাণ্য বিতর্কও পর্যালোচনা করব।
জাতিসংঘ বিভাজন পরিকল্পনা, ১৯৪৭
যুদ্ধোত্তর ব্রিটেন ফিলিস্তিনের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অর্থনৈতিক বোঝা সামলাতে অক্ষম হয়ে ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে সমস্যাটি জাতিসংঘের কাছে হস্তান্তর করে। জাতিসংঘ ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ কমিটি (UNSCOP) গঠন করে, যা কয়েক মাসের অনুসন্ধানের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত হিসেবে বিভাজনের সুপারিশ করে। ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব ১৮১ গৃহীত হয় যার মধ্যে ৩৩টি ভোটের পক্ষে, ১৩টি বিপক্ষে এবং ১০টি বিরত থেকে যা ফিলিস্তিনকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র, একটি আরব রাষ্ট্র এবং জেরুজালেম ও বেথলেহেমের জন্য একটি পৃথক আন্তর্জাতিক প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবিত ইহুদি রাষ্ট্র পেত মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫৬ শতাংশ, যদিও সেই সময়ে ইহুদি জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩২ শতাংশ ছিল। এই অসামঞ্জস্য মূলত নেগেভ মরুভূমির বিশাল, জনবিরল এলাকা ইহুদি রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার কারণে ঘটেছিল।
জায়নবাদী নেতৃত্ব ডেভিড বেন-গুরিয়নের নেতৃত্বে ইহুদি সংস্থা প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে, যদিও অনেক নেতা এটিকে আদর্শ থেকে অনেক দূরে বলে মনে করতেন। বিপরীতে, আরব উচ্চ কমিটি এবং আরব লীগের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ প্রস্তাবটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে, এই যুক্তিতে যে জাতিসংঘের কোনো নৈতিক বা আইনি অধিকার নেই একটি ভূখণ্ডকে তার অধিবাসীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্মতি ছাড়া বিভক্ত করার, বিশেষত যখন প্রস্তাবিত বিভাজন জনতাত্ত্বিক অনুপাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এই প্রত্যাখ্যান যুদ্ধকে কার্যত অনিবার্য করে তোলে।
প্রস্তাব ১৮১-এর একটি বিশেষ জটিলতা ছিল প্রস্তাবিত ইহুদি রাষ্ট্রের ভৌগোলিক গঠন। এটি তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত ছিল, যা কেবল সংকীর্ণ ভূখণ্ডীয় সংযোগ দ্বারা যুক্ত, এবং এর অভ্যন্তরেই প্রায় ৪০ শতাংশ অধিবাসী ছিলেন আরব। একইভাবে প্রস্তাবিত আরব রাষ্ট্রও ভৌগোলিকভাবে খণ্ডিত ছিল। এই জটিল, প্রায় অবাস্তবায়নযোগ্য মানচিত্র বাস্তবায়নের ব্যবহারিক অসম্ভাব্যতা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক সংযোগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার প্রশ্নে উভয় পক্ষের মধ্যেই সন্দেহ তৈরি করেছিল যে দীর্ঘমেয়াদে এই বিভাজন কার্যকর থাকবে কিনা।
গৃহযুদ্ধ পর্ব: ডিসেম্বর ১৯৪৭ থেকে মে ১৯৪৮
জাতিসংঘ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পরদিন থেকেই ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে সহিংসতা শুরু হয়। প্রথমে বিক্ষিপ্ত হামলা ও পাল্টা হামলা হিসেবে, পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তঃসাম্প্রদায়িক গৃহযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়ে, যা ব্রিটিশ ম্যান্ডেট আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তির আগেই। এই পর্বে প্রধান লড়াই হয় স্থানীয় ফিলিস্তিনি মিলিশিয়া ও সিরিয়া-ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী আরব লিবারেশন আর্মির বিরুদ্ধে হাগানাহ, ইরগুন ও লেহির মতো ইহুদি আধা-সামরিক সংগঠনের মধ্যে। প্রাথমিক পর্যায়ে ফিলিস্তিনি আরব বাহিনী জেরুজালেম-তেল আবিব সড়কে ইহুদি কাফেলার উপর কার্যকর অবরোধ আরোপ করতে সক্ষম হয়, যা জেরুজালেমের ইহুদি জনগোষ্ঠীকে গুরুতর খাদ্য ও রসদ সংকটে ফেলে দেয়।
১৯৪৮ সালের এপ্রিলে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তিত হয়, যখন হাগানাহ "পরিকল্পনা দালেত" নামক একটি কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল সড়ক যোগাযোগ সুরক্ষিত করা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনা। এই পরিকল্পনার ব্যাখ্যা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে। এটি কি নিছক সামরিক প্রতিরক্ষামূলক কৌশল ছিল, নাকি এতে সুপরিকল্পিত জনতাত্ত্বিক রূপান্তরের উপাদানও অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক আজও অব্যাহত।
এই পর্বের সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা ঘটে ১৯৪৮ সালের ৯ এপ্রিল, যখন ইরগুন ও লেহি যোদ্ধারা জেরুজালেমের কাছে দেইর ইয়াসিন গ্রামে আক্রমণ চালায়, যেখানে শতাধিক গ্রামবাসী নিহত হন। সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ঘটনার ভয়াবহতা ব্যাপকভাবে নথিভুক্ত। এই হত্যাকাণ্ডের সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তী মাসগুলোতে অসংখ্য ফিলিস্তিনি পরিবারের পলায়নের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন। এর কয়েকদিন পরই পাল্টা হামলায় আরব যোদ্ধারা হাদাসাহ হাসপাতালগামী একটি চিকিৎসা কর্মী কাফেলায় হামলা চালায়, যাতে ৭৮ জন নিহত হন। একটি ঘটনা যা ইহুদি জনমতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে।
এপ্রিল-মে মাসে হাগানাহ একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ শহর দখল করে। তিবেরিয়াস, হাইফা, জাফা ও সাফেদ, যেখান থেকে স্থানীয় আরব জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ পালিয়ে যান বা বিতাড়িত হন, ব্রিটিশ প্রশাসন তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় থাকলেও কার্যত হস্তক্ষেপে অক্ষম ছিল। হাইফার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে ইহুদি নগর কর্তৃপক্ষ আরব বাসিন্দাদের থেকে যাওয়ার আহ্বান জানালেও, স্থানীয় আরব নেতৃত্বের একাংশ এবং আশপাশের যুদ্ধ পরিস্থিতির চাপে অধিকাংশ বাসিন্দা শহর ত্যাগ করেন। এই ঘটনাটি প্রায়ই শরণার্থী সংকটের বহুমুখী কারণ ব্যাখ্যায় উদাহরণ হিসেবে উদ্ধৃত হয়।
স্বাধীনতা ঘোষণা ও পাঁচ জাতির আক্রমণ
১৯৪৮ সালের ১৪ মে বিকেলে, ব্রিটিশ ম্যান্ডেট আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তির কয়েক ঘণ্টা আগে, ডেভিড বেন-গুরিয়ন তেল আবিব জাদুঘরে ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়, সোভিয়েত ইউনিয়ন কয়েকদিনের মধ্যে অনুসরণ করে। পরদিন, ১৫ মে, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন ও ইরাকের সম্মিলিত বাহিনী নবগঠিত রাষ্ট্রে আক্রমণ চালায়। যদিও এই "সম্মিলিত" আক্রমণের সমন্বয় বাস্তবে ছিল দুর্বল, কারণ প্রতিটি আরব রাষ্ট্রের নিজস্ব ভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল, বিশেষত জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর সাথে অন্যান্য আরব নেতাদের গভীর অবিশ্বাসের সম্পর্ক, যিনি গোপনে ইহুদি সংস্থার সাথে পূর্ব-সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন পশ্চিম তীর নিজের রাজ্যের সাথে সংযুক্ত করার ব্যাপারে।
একই দিনে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত জাতীয় স্মৃতি জন্ম নেয় । একটির কাছে ১৪ মে স্বাধীনতা দিবস, অন্যটির কাছে যা আসছে তার নাম নাকবা।
যুদ্ধের গতিপথ: প্রথম যুদ্ধবিরতি থেকে চূড়ান্ত আক্রমণ
যুদ্ধের প্রথম কয়েক সপ্তাহে আরব বাহিনী কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করে। জর্ডানের আরব লিজিয়ন পূর্ব জেরুজালেমের পুরাতন শহর দখল করে এবং ইহুদি কোয়ার্টার থেকে বাসিন্দাদের বিতাড়িত করে, মিসরীয় বাহিনী দক্ষিণে অগ্রসর হয়। কিন্তু ১৯৪৮ সালের জুনে জাতিসংঘ মধ্যস্থতাকারী কাউন্ট ফোল্কে বার্নাডোটের তত্ত্বাবধানে প্রথম যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা ইসরায়েলকে অস্ত্র সংগ্রহ ও সেনা পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময় দেয়। বিশেষত চেকোস্লোভাকিয়া থেকে গোপন অস্ত্র চালানের মাধ্যমে, যা যুদ্ধের ভারসাম্য নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করে।
জুলাইয়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী একাধিক আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করে। অপারেশন ড্যানি লিদ্দা ও রামলা দখল করে, যেখান থেকে প্রায় ৫০,০০০-৭০,০০০ বাসিন্দাকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করা হয়, যা যুদ্ধের সবচেয়ে সুস্পষ্টভাবে নথিভুক্ত জোরপূর্বক বিতাড়নের ঘটনাগুলোর একটি। সেপ্টেম্বরে বার্নাডোট নিহত হন জেরুজালেমে লেহি সদস্যদের হাতে, যার পর অক্টোবর-নভেম্বরে অপারেশন ইয়োয়াভ ও হিরাম দক্ষিণ ও উত্তর ফ্রন্টে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও সম্প্রসারিত করে। ১৯৪৯ সালের মার্চ নাগাদ যুদ্ধ কার্যত সমাপ্ত হয়, ইসরায়েল জাতিসংঘ বিভাজন পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত ভূখণ্ডের চেয়েও বেশি এলাকা মোট ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের প্রায় ৭৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
নাকবা: শরণার্থী সংকট ও তার ব্যাখ্যা
যুদ্ধের সবচেয়ে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী পরিণতি ছিল ফিলিস্তিনি জনতাত্ত্বিক বিপর্যয়। যুদ্ধ চলাকালীন আনুমানিক ৭০০,০০০ ফিলিস্তিনি আরব তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন বা বিতাড়িত হন এবং প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি ফিলিস্তিনি গ্রাম সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস বা পরিত্যক্ত হয়। এই ঘটনাকে ফিলিস্তিনিরা "নাকবা" (আরবি ভাষায় বিপর্যয়) নামে স্মরণ করেন, যা তাদের জাতীয় স্মৃতি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কেন্দ্রীয় স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।
ইতিহাসবিদদের বিতর্ক: কেন পালালেন তাঁরা?
ঐতিহ্যবাহী ইসরায়েলি বয়ান: দীর্ঘদিন প্রচলিত মত ছিল যে ফিলিস্তিনিরা মূলত আরব নেতাদের আহ্বানে স্বেচ্ছায় পালিয়েছিলেন, এই প্রতিশ্রুতিতে যে যুদ্ধ জয়ের পর তারা ফিরে আসবেন যদিও পরবর্তী গবেষণায় এমন ব্যাপক সাংগঠনিক আহ্বানের প্রামাণ্য দলিল সীমিত পাওয়া গেছে।
"নতুন ইতিহাসবিদ" ধারা (বেনি মরিস প্রমুখ): ১৯৮০-র দশকে ইসরায়েলি সরকারি আর্কাইভ উন্মুক্ত হওয়ার পর বেনি মরিসের মতো ইতিহাসবিদরা দেখান যে পলায়নের কারণ ছিল বহুমুখী। যুদ্ধের ভয় ও সরাসরি সামরিক আক্রমণ, দেইর ইয়াসিনের মতো ঘটনার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, স্থানীয় পর্যায়ে ইসরায়েলি কমান্ডারদের সুনির্দিষ্ট বিতাড়ন নির্দেশ (যেমন লিদ্দা-রামলায়), এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তন প্রতিরোধে গ্রাম ধ্বংসের পরিকল্পিত নীতি। মরিস নিজে এটিকে "যুদ্ধজনিত" ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন, একক কেন্দ্রীয় বিতাড়ন নীতির ফল হিসেবে নয়।
ফিলিস্তিনি ও কিছু সংশোধনবাদী ইতিহাসবিদের (যেমন ইলান পাপে) বয়ান: এই ধারা যুক্তি দেন যে ঘটনাক্রম একটি সুপরিকল্পিত, পদ্ধতিগত জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়ার প্রমাণ বহন করে, যেখানে পরিকল্পনা দালেত ছিল তার কৌশলগত রূপরেখা।
এই তিনটি ব্যাখ্যার মধ্যে ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে আজকের মূলধারার ইতিহাসচর্চা সাধারণত দ্বিতীয় অবস্থানের কাছাকাছি অবস্থান করে। অর্থাৎ বহুকারণিক ব্যাখ্যা, যেখানে স্থানীয় সামরিক সিদ্ধান্ত, ব্যাপক ভীতি এবং কিছু সুনির্দিষ্ট বিতাড়নের ঘটনা একসাথে মিলিত হয়েছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যাগত বিতর্ক আজও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং একাডেমিক চর্চায় সক্রিয়।
যে সংখ্যক ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু হন, তাদের অধিকাংশই আশ্রয় নেন প্রতিবেশী জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে, যেখানে জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থা (UNRWA) ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় তাদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। একটি সংস্থা যা আজও কার্যকর রয়েছে এবং যার ম্যান্ডেট বংশপরম্পরায় শরণার্থী মর্যাদা হস্তান্তরের কারণে এখনও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে অবস্থান করে। একই সময়ে, যুদ্ধ-পরবর্তী কয়েক বছরে প্রায় সমসংখ্যক ইহুদি জনগোষ্ঠী আরব রাষ্ট্রসমূহ থেকে ইসরায়েলে অভিবাসিত হন বা বিতাড়িত হন যেমন ইরাক, ইয়েমেন, মিসর ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো থেকে একটি সমান্তরাল জনতাত্ত্বিক রূপান্তর, যা প্রায়শই মূলধারার আলোচনায় কম গুরুত্ব পায় কিন্তু অঞ্চলের সামগ্রিক জনতাত্ত্বিক পুনর্বিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১৯৪৮ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ প্রস্তাব ১৯৪ গ্রহণ করে, যাতে বলা হয় যে যেসব শরণার্থী তাদের প্রতিবেশীদের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে ইচ্ছুক, তাদের "যত দ্রুত সম্ভব" ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া উচিত এবং যারা ফিরতে চান না তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা উচিত। ইসরায়েল এই প্রস্তাবকে একটি নীতিগত লক্ষ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও জনতাত্ত্বিক ভারসাম্য পরিবর্তনের আশঙ্কার কারণে বাস্তবে ব্যাপক প্রত্যাবর্তন কখনও অনুমোদন করেনি। এই অমীমাংসিত "প্রত্যাবর্তনের অধিকার" প্রশ্ন আজও ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দাবির কেন্দ্রীয় স্তম্ভ এবং যেকোনো চূড়ান্ত শান্তি আলোচনার সবচেয়ে জটিল অমীমাংসিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে রয়েছে।
রোডস যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও নতুন মানচিত্র
১৯৪৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে জাতিসংঘ মধ্যস্থতায় গ্রিক দ্বীপ রোডসে ইসরায়েল পৃথকভাবে মিসর, লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়ার সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তিগুলোর ফলে যে সীমারেখা তৈরি হয় তা "গ্রিন লাইন" নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। একটি সামরিক যুদ্ধবিরতি রেখা, যা কখনোই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্থায়ী সীমান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়নি, কিন্তু পরবর্তী ঊনিশ বছর কার্যত সীমান্ত হিসেবেই কাজ করেছে। জর্ডান পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম নিয়ন্ত্রণে রাখে (এবং ১৯৫০ সালে একতরফাভাবে সংযুক্ত করে, যা শুধু ব্রিটেন ও পাকিস্তান স্বীকৃতি দেয়), মিসর গাজা উপত্যকা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রতিশ্রুত স্বাধীন আরব রাষ্ট্র, যা জাতিসংঘ বিভাজন পরিকল্পনায় কল্পনা করা হয়েছিল, কখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি, একটি অসম্পূর্ণতা যা পরবর্তী সাত দশকের রাজনৈতিক সংকটের একটি কেন্দ্রীয় কাঠামোগত উৎস হয়ে থাকবে।
জেরুজালেম: এক শহর, দুই অর্ধেক
যুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে জটিল মীমাংসা ছিল জেরুজালেমের ভবিষ্যৎ নিয়ে — যে শহরকে জাতিসংঘ বিভাজন পরিকল্পনা একটি পৃথক আন্তর্জাতিক অঞ্চল হিসেবে কল্পনা করেছিল, কিন্তু যুদ্ধের বাস্তবতায় তা কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। পশ্চিম জেরুজালেম ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ১৯৪৯ সালে ইসরায়েল একে তার রাজধানী ঘোষণা করে, যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ রাষ্ট্র এই স্বীকৃতি দীর্ঘদিন প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। পূর্ব জেরুজালেম, পুরাতন শহর ও তার ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোসহ (আল-আকসা মসজিদ, পশ্চিম প্রাচীর, পবিত্র সমাধি গির্জা) জর্ডানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এই বিভাজনকালে ইহুদি কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের বিতাড়ন এবং বহু প্রাচীন সিনাগগ ধ্বংসের ঘটনা ইসরায়েলি জাতীয় স্মৃতিতে গভীর ক্ষত হিসেবে থেকে যায়, যা পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পুরাতন শহর পুনর্দখলের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
যুদ্ধের মানবিক হিসাব
সামরিক দিক থেকে যুদ্ধে প্রায় ছয় হাজার ইসরায়েলি নিহত হন যা তৎকালীন ইহুদি জনসংখ্যার প্রায় এক শতাংশ, একটি নবগঠিত রাষ্ট্রের জন্য বিপুল ক্ষয়ক্ষতি। আরব পক্ষের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান কম, তবে সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে তা কয়েক হাজারে পৌঁছেছিল বলে ধারণা করা হয়। যুদ্ধ শুধু ভূখণ্ড ও জনতাত্ত্বিক গঠনই পরিবর্তন করেনি, বরং সমগ্র আরব বিশ্বের রাজনৈতিক গতিপথও নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করে পরাজয়ের অপমান মিসর, সিরিয়া ও ইরাকে সামরিক অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি দীর্ঘ পর্বের সূচনা করে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ১৯৫২ সালে মিসরে গামাল আবদেল নাসেরের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থান, যিনি নিজে ১৯৪৮ যুদ্ধে ফালুজা পকেটে অবরুদ্ধ একজন তরুণ সেনা কর্মকর্তা ছিলেন।
P
দ্য পেপিরাস ভার্ডিক্ট
১৯৪৮ সালের যুদ্ধ একটি একক ঘটনা নয়, বরং তিনটি সমান্তরাল প্রক্রিয়ার সংমিশ্রণ — একটি রাষ্ট্রের সামরিক প্রতিষ্ঠা, একটি জনগোষ্ঠীর ব্যাপক উৎখাত, এবং একটি প্রতিশ্রুত রাষ্ট্রের অনুপস্থিতি। শরণার্থী সংকটের কারণ নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক আজও অব্যাহত, কিন্তু এর পরিণতি সম্পর্কে কোনো বিতর্ক নেই — একটি জনতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল যা পরবর্তী প্রতিটি যুদ্ধ, প্রতিটি শান্তি আলোচনা এবং প্রতিটি শরণার্থী শিবিরের প্রজন্মান্তরে বহমান স্মৃতির ভিত্তি হয়ে দাঁড়াবে। পরবর্তী পর্বে আমরা দেখব কীভাবে ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধ এই অসম্পূর্ণ মানচিত্রকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনর্নির্মাণ করে।
সূত্র নির্দেশিকা: এই প্রবন্ধের তথ্যাদি জাতিসংঘ সরকারি নথি (প্রস্তাব ১৮১), রোডস যুদ্ধবিরতি চুক্তিসমূহ এবং প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসগ্রন্থ (Benny Morris, Ilan Pappé, Rashid Khalidi, Tom Segev) নির্ভর। শরণার্থী সংখ্যা ও গ্রাম ধ্বংসের পরিসংখ্যান বিভিন্ন সূত্রে সামান্য ভিন্ন হতে পারে; শরণার্থী পলায়নের কারণ সম্পর্কিত ব্যাখ্যা ঐতিহাসিকভাবে বিতর্কিত, যা এই প্রবন্ধে পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
Comments