Geopolitics - Geoeconomics & Sanctions

রাশিয়ার তেলের ওপর আসছে ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা

সেনেট ৮৬-১২ ভোটে একটি বিল এগিয়ে নিয়েছে যা ভারত ও চীনের উপর দুইশো শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপাতে পারে শুধু রাশিয়ার তেল কেনার অপরাধে। এই আইনের ছায়া দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে, বাংলাদেশও তার বাইরে নয়।

লেখক Mishu Afrin Juthi
সময় ০৬/০৮/২৬ ২১:৩৬:৩৮
Facebook LinkedIn X (Twitter) WhatsApp Share
সারাংশ

সেনেট ৮৬-১২ ভোটে একটি বিল এগিয়ে নিয়েছে যা ভারত ও চীনের উপর দুইশো শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপাতে পারে শুধু রাশিয়ার তেল কেনার অপরাধে। এই আইনের ছায়া দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে, বাংলাদেশও তার বাইরে নয়।

হুয়ান জারাতে তাঁর "ট্রেজারিজ ওয়ার" বইয়ে একটি সহজ কিন্তু গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছিলেন। একবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র আর বিমানবাহী রণতরী নয় বরং তার নিজস্ব আর্থিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয়তা। ডলার যেখানে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা, সেখানে সেই ব্যবস্থার প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়াই হয়ে ওঠে যুদ্ধ ছাড়াই যুদ্ধ চালানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। জারাতের এই থিসিস লেখা হয়েছিলো ২০১৩ সালে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ওয়াশিংটন সেই অস্ত্রের একটি নতুন, আরও আক্রমণাত্মক সংস্করণ পরীক্ষা করছে। এবার লক্ষ্যবস্তু রাশিয়া একা নয়, বরং তার তেল কেনা প্রতিটি রাষ্ট্র।


২০২৫ সালের ১ এপ্রিল, দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একটি বিল উত্থাপন করলেন যার নাম পরে হয়ে দাঁড়ায় ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আইন। মূল প্রস্তাবে বলা হয়েছিলো যেসব দেশ রাশিয়া থেকে নিষেধাজ্ঞাধীন পণ্য কেনে, তাদের উপর যুক্তরাষ্ট্র পাঁচশো শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবে। সংখ্যাটি এতটাই চরম ছিলো যে অনেকে একে প্রতীকী হুমকি হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু বিলটি চুরাশি জন সেনেটরের সমর্থন পেয়ে যায়। প্রেসিডেন্টের ভেটো অগ্রাহ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সীমা পেরিয়ে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান হতাশা এই বিলকে দ্রুত গতি দিয়েছিলো, যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন পুতিনের সাথে সমঝোতার আশায় একে আটকে রেখেছিলেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গ্রাহামের সাথে বৈঠকের পর ট্রাম্প অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলকে সমর্থন জানান।


একটি সুপ্রিম কোর্ট রায় যা পুরো কৌশল বদলে দিলো

এই বিলের গতিপথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে আদালত থেকে, কংগ্রেস থেকে নয়। ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট লার্নিং রিসোর্সেস বনাম ট্রাম্প মামলায় ছয়-তিন ভোটে রায় দেয় যে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন বা আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে লিখতে গিয়ে বলেন, ''শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের একটি মৌলিক এখতিয়ার এবং তা প্রয়োগ করতে হলে সুস্পষ্ট আইনি অনুমোদন প্রয়োজন, যা আইইইপিএ প্রদান করে না, কারণ এই আইনে আমদানি "নিয়ন্ত্রণ" করার কথা বলা থাকলেও শুল্ক শব্দটির উল্লেখই নেই।'' এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা শুল্কনীতির একটি বড় অংশকে আইনি অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয়।


সংশোধিত রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল ঠিক এই সমস্যারই সরাসরি সমাধান করে। বিলের ধারা সতেরোতে স্পষ্টভাষায় লেখা আছে "অন্য যেকোনো আইনের বিধান নির্বিশেষে, শুল্কের হার বৃদ্ধি করা যাবে।" এটিই ঠিক সেই ধরনের সুস্পষ্ট কংগ্রেসনাল অনুমোদন, যার অভাবের কথা আদালত আইইইপিএ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছিলো। অর্থাৎ এবার শুল্ক আরোপ আর জরুরি নির্বাহী ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল থাকবে না। এটি হবে কংগ্রেসের সরাসরি ও দ্ব্যর্থহীন আইনি সিদ্ধান্ত, যা ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা অনেক কঠিন হবে।


বিলের গতিপথ

এপ্রিল ২০২৫ গ্রাহাম মূল বিল উত্থাপন করেন — ৫০০% শুল্কের প্রস্তাব, ৮৪ সেনেটরের সমর্থন
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সুপ্রিম কোর্ট আইইইপিএ-ভিত্তিক শুল্ক ক্ষমতা খারিজ করে দেয়
১১ জুলাই ২০২৬ সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যু
১৪ জুলাই ২০২৬ সংশোধিত বিল উত্থাপিত — শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের উপর সর্বোচ্চ ১০০% পর্যন্ত শুল্কের কাঠামো
২৮ জুলাই ২০২৬ জেলেনস্কির ক্যাপিটল আবেদনের পর সেনেট ৮৬-১২ ভোটে ক্লোচার পাস করে


লক্ষ্যবস্তু কারা এবং কেন এতটা বিভ্রান্তিকর সংখ্যা

বিলের বিভিন্ন সংস্করণে শুল্কের হার নিয়ে যে অসঙ্গতি দেখা গেছে, তা এই আইনি লড়াইয়ের জটিলতারই প্রতিফলন। মূল ২০২৫ সংস্করণে ৫০০% হারের কথা বলা হয়েছিলো। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সংশোধিত সংস্করণে তা নামিয়ে আনা হয় সর্বোচ্চ ১০০%-এ, যেখানে প্রকৃত হার নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরকে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে সেনেট যে সংস্করণে ক্লোচার পাস করে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাতে সর্বোচ্চ ২০০% পর্যন্ত শুল্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে অর্থাৎ চূড়ান্ত সংখ্যাটি এখনো আলোচনার মধ্যে আছে এবং হাউসের বিবেচনার সময় আরও বদলাতে পারে। তবে কাঠামোগত লক্ষ্য অপরিবর্তিত। সাম্প্রতিক বারো মাসে যে পাঁচটি দেশ সবচেয়ে বেশি রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল বা গ্যাস কিনেছে, এবং যে পাঁচটি দেশ রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা এড়ানোয় সহায়তা করেছে, তাদের উপর এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী তালিকায় আছে চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান, এবং প্রধান গ্যাস ক্রেতা হিসেবে তুরস্ককেও যুক্ত করা হয়েছে। যেসব দেশ রাশিয়ার মোট গ্যাস আমদানির পনেরো শতাংশের কম কেনে এবং তা কমানোর দিকে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের জন্য একটি ছাড়ের বিধান রাখা হয়েছে। মূলত ইউরোপীয় মিত্রদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যে।


সেনেটর রজার উইকার নিজেই স্বীকার করেছেন এই বিলের রাজনৈতিক নকশার কথা। বিলটি সচেতনভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের এড়িয়ে চীন ও ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর একটি বাস্তব কারণও আছে। এস অ্যান্ড পি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালজুড়ে ভারত, চীন ও তুরস্ক রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ তিন ক্রেতা হিসেবে অবস্থান করছে, এবং রাশিয়ার দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল রপ্তানির মধ্যে ভারত ও চীন মিলে গড়ে প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল কেনে। শুধু সংখ্যাতেই নয়, বাণিজ্যের ধরনেও একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া চীনের কাছে সৌদি আরবকে টপকে শীর্ষ অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারীর জায়গা দখল করে নেয়, এবং প্রথমবারের মতো পূর্ব সাইবেরিয়া-প্রশান্ত মহাসাগর বা ইএসপিও ব্লেন্ডের শতভাগ রপ্তানি চীনা বন্দরে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারিতে চীনা রিফাইনারিগুলো দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল শোষণ করে। এক মাসেই একুশ শতাংশ বৃদ্ধি, কারণ ভারতীয় ক্রেতারা যেসব চালান এড়িয়ে যেতে শুরু করেছিলো, চীন সেগুলো দ্রুত কিনে নিচ্ছিলো।


"রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সত্তর শতাংশ কেনে চীন আর ভারত। এই বিলের আসল লক্ষ্য পুতিনের গ্রাহকদের আঘাত করা।"
সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের ভাষ্য, বিলের নকশা নিয়ে


ভারত ইতিমধ্যে একবার আঘাত খেয়েছে

এই গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-অধ্যায় আছে, যা ২০২৫ সালেই লেখা হয়ে গেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপর ২৫% পারস্পরিক শুল্কের সাথে রাশিয়ান তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক যুক্ত করে। মোট পঞ্চাশ শতাংশ, যা ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যেকোনো দেশের উপর আরোপিত সর্বোচ্চ শুল্কগুলোর একটি। ভারত এই পদক্ষেপকে "অন্যায্য ও অযৌক্তিক" বলে অভিহিত করে, এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট বলেন যে কৃষক, পশুপালক ও ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না, চাপ বাড়লেও ভারত তা সহ্য করবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই সময়ে চীনের উপর তখন মাত্র ৩০% এবং তুরস্কের উপর ১৫% শুল্ক বহাল ছিলো — অর্থাৎ ভারতকে তখনই সবচেয়ে কঠোরভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিলো, যদিও রাশিয়ান তেল ক্রয়ে চীনের পরিমাণ ভারতের প্রায় কাছাকাছি।


নতুন সেনেট বিল এই বিচ্ছিন্ন নির্বাহী পদক্ষেপকে একটি স্থায়ী, আইনি ও বহুপাক্ষিক কাঠামোয় রূপ দিচ্ছে। পার্থক্য শুধু মাত্রায় নয়, চরিত্রেও আগের শুল্ক ছিলো একজন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ, যা পরবর্তী প্রশাসন বা আদালতের রায়ে বাতিল হতে পারতো। নতুন আইন কংগ্রেসের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত হিসেবে অনেক বেশি স্থিতিশীল, যদিও এতে একটি মওকুফের বিধানও আছে। প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের কাছে জাতীয় স্বার্থের সনদ দিয়ে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখতে পারবেন, এবং রাশিয়া যদি ইউক্রেন সরকারের গ্রহণযোগ্য একটি শান্তিচুক্তিতে সই করে ও সামরিক অভিযান বন্ধ করে, তবে ত্রিশ দিনের কংগ্রেসনাল পর্যালোচনা সাপেক্ষে পুরো ব্যবস্থাই বাতিল হয়ে যেতে পারে।


সোর্সিং নোট: বিলের আইনি বিবরণ Congress.gov-এর মূল বিল-টেক্সট, Atlantic Council এবং Nakachi Eckhardt & Jacobson-এর আইনি বিশ্লেষণ থেকে যাচাই করা। রাশিয়ার তেল বাণিজ্যের পরিসংখ্যান S&P Global Commodities at Sea-ভিত্তিক প্রতিবেদন থেকে নেওয়া — এগুলো বাণিজ্যিক ট্র্যাকিং ডেটা, চূড়ান্ত সরকারি কাস্টমস পরিসংখ্যান নয়। শুল্কহার (১০০% বনাম ২০০%) নিয়ে সোর্সভেদে অসঙ্গতি আছে, যা নিবন্ধে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এর মানে কী?

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এই বিলটি কোনো দূরবর্তী ওয়াশিংটন-মস্কো নাটক নয়। ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলসীমান্ত-প্রতিবেশী এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে বাংলাদেশের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী। যদি ভারতের উপর একশো বা দুইশো শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হয়, তাহলে দুটি বিপরীতমুখী প্রভাব একসাথে কাজ করবে। প্রথমত, স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় টেক্সটাইল ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য প্রতিযোগিতা মার খেতে পারে, যা তাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি খাতের জন্য একটি সাময়িক সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয়ত, এবং এটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত যদি একটি দীর্ঘস্থায়ী শুল্ক যুদ্ধের মধ্যে পড়ে, তার প্রভাব পুরো অঞ্চলের সরবরাহ চেইন, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং আঞ্চলিক মুদ্রার স্থিতিশীলতায় ছড়িয়ে পড়বে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি-নির্ভর অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।


এর চেয়েও গভীর একটি শিক্ষা আছে এই পুরো ঘটনাক্রমে যাকে বলা যায় "অস্ত্রীভূত পারস্পরিক নির্ভরতা।" যে দেশগুলো বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় গভীরভাবে সংযুক্ত, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের উপর রপ্তানি-নির্ভরতা যাদের বেশি, তারা এখন জ্বালানি নীতি, ভূরাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের মধ্যে ক্রমশ কঠিন একটি সমীকরণের মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশ নিজে রাশিয়ান তেলের বড় ক্রেতা নয়, কিন্তু বাংলাদেশের সামনে এই নজিরটি স্পষ্ট বার্তা দেয় — বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যকার প্রতিযোগিতায় একটি রপ্তানি-নির্ভর মধ্যম-আয়ের দেশের জন্য কূটনৈতিক নিরপেক্ষতা রক্ষা করা ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, এবং যেকোনো একক বাজারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা একটি কৌশলগত দুর্বলতা।


Papyrus Verdict

রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলের এই দীর্ঘ যাত্রা একটি বড় সত্য উন্মোচন করে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এখন আর শুধু নির্বাহী ক্ষমতার হাতিয়ার নয়, এটি কংগ্রেসের একটি স্থায়ী আইনি অস্ত্রে রূপান্তরিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসনের পক্ষে বাতিল করা কঠিন হবে। কিন্তু এই অস্ত্রের কার্যকারিতা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। চীন যেভাবে ভারতের ছেড়ে দেওয়া রাশিয়ান তেলের চালান দ্রুত শোষণ করে নিচ্ছে, তা দেখায় যে নিষেধাজ্ঞা ক্রেতাদের সংখ্যা কমাতে পারে, কিন্তু সামগ্রিক চাহিদা নিশ্চিহ্ন করতে পারে না, বরং তা পুনর্বণ্টন করে। ভারতের জন্য এই মুহূর্তটি একটি কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষা যার কেন্দ্রে জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা করা, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার রক্ষা করা, এই দুইয়ের মধ্যে একটি স্পষ্ট পছন্দ ক্রমশ অনিবার্য হয়ে উঠছে। আর বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য বার্তা আরও সরল। বাংলাদেশের মহাশক্তিগুলোর অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বে নিরপেক্ষ থাকার বিলাসিতা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।


লেখক
Mishu Afrin Juthi Mishu Afrin Juthi studied Economics where her research interests centered on the historical relationship between trade policy and state formation in South Asia. She writes at the intersection of economic history and contemporary policy, tracing how ideas from Smith, Ricardo, and Keynes resurface often distorted in modern development debates. Her work for The Papyrus has examined Bangladesh's shifting position in global trade architecture, from BRICS accession debates to the political economy of regional connectivity projects like the Kyaukpyu corridor. She approaches economic journalism with a historian's skepticism of easy narratives, preferring to locate present-day policy choices within longer cycles of precedent and consequence. Dhaka, Bangladesh

Comments